ধর্ম অবমাননা করিনি, অপপ্রচার হচ্ছে:
গাফফার চৌধুরী
নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি, বিডিনিউজ
টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published
on Jul 4, 2015
Almighty
Allah, Islam, Arabic language and about the woman Hijab on the screen: remarks
by eminent writer and columnist Abdul Gaffar Chowdhury in New York, July 3,
2015.
Report By Sibli Chowdhury Kayes, TV and News Paper: The News Link:http://www.thereport24.com/article/11...
Attachments
area
Chowdhury Receives Award from the Ambassador of Bangladesh to the UN
Criticism has been raised over comments
by well known pro-Awami League columnist Abdul Gaffar Chowdhury at a function
at New York where he made what many have perceived to be inappropriate
comments, saying that the 99 names of Allah were the names of the ‘gods of
Kafirs (unbelievers or pagans)’. He also made comments criticizing the Arabic
language and the veil.
He made the comments at a seminar entitled, “Bangladesh: Past, Present
and Future” at New York on the 3rd of July hosted by Bangladesh Permanent Mission
to the UN. The comments have generated widespread criticism in the expatriate
Bangladeshi community and amongst the online social media community as well.
Hosted by Dr. AK Abdul Momen, the Bangladesh Permanent Representative to
the UN and the ambassador, Abdul Gaffar Chowdhury, a secular Bangladeshi
columnist who writes regular columns and opinion pieces in favour of the ruling
party the Awami League in Bangladesh, said, “The Arabic words we use today are
all words which were used by the ‘Kuffar’, or the disbelievers before the
advent of Islam, such as the 99 names of Allah- all were names of the gods of
the ‘Kafirs’. Their language had words like Ar-Rahman, Gaffar, Gofur, et
cetera. All these words were actually later adopted by Islam(!)”
Making derogatory remarks about the ‘burkha’ and the ‘hijab’
(traditional forms of veil worn by practicing Muslim women), he said, “This is
the latest cultural involvement of the ‘Wahhabis’ in Bangladesh. I am
surprised. They even expect class two girls to wear this! Can this be the
teachings of a religion?”
He further said, “Muslim women and girls think that wearing the ‘burkha’
is the identity of Islam. Is this really true? Some wear the ‘burkha’ and still
continue love affairs. Some even have affairs online. By donning the ‘burkha’
and yet aping Western practices, they are just fooling themselves.”
The pro-Awami columnist continued, “Times have changed. Many in
Bangladesh are against wearing the veil. Social movements need to be raised
against this blind religious practice.”
Confessing that he had a little early life education from a madrassah,
he said,” There is a difference between Rasul (messenger) and Rasulullah
(messenger of God) or Rasule-salam (messenger of peace). There are many who
would call for my neck if I said that I was a Rasul (messenger). The collector
of the largest number of Hadith, Abu Hurayra, means ‘Father of Cat’ and the
name of Abu Bakr (one of the most revered of Companions and the first of
Khulafaye-Rashidun) means ‘Father of Goat’. Those of the ‘Kafirs’ who converted
later did not change their names.”
He made further remarks supporting Abdul Latif Siddiqui, the former
Awami League Minister who had faced both nationwide and worldwide criticism for
making derogatory remarks against Islam and the Prophet (pbuh), losing his job
and being arrested temporarily as a result.
Gaffar Chowdhury, while making further comments on Islam in Bangladesh,
said, “Wahhabism (fundamentalism) has made a lot of divisions between the
Muslims. I believe that if Prime Minister Sheikh Hasina had strongly curbed
fundamentalism with a strong arm, Bangladesh would have been destroyed. Even if
she may have hundreds of faults and errors, she is the true symbol of
secularism in Bangladesh today.”
Many in the audience stated that they felt extremely uncomfortable at
the detour of discussion to the sensitive topic of undue criticism of Islam and
its tenets. When asked of his opinion, Abdul Mukit Chowdhury, the convener of
the American branch of the Bangladesh Muktijoddha Sangsad, the freedom fighters
association, and one of those present at the seminar, said, “The above issue is
highly deplorable. Whichever platform or ideology we belong to, nobody should
make such remarks about Allah (swt), the Prophet (pbuh), Islam and the veil.”
Olema League speaks out against Gaffar
Chowdhury
Observer
Online Desk
Published
: Tuesday, 7 July, 2015, Time
: 8:44 PM, View Count : 13
Bangladesh
Awami Olama League has demanded eminent expatriate journalist and columnist
Adbul Gaffar Chowdhury be punished for his remarks that hurt the sentiments of the country’s majority
Muslim population.
The demand was voiced at a human chain at the National Press Club. Some 13
other Islamist parties joined the program and expressed solidarity with the
demand.
Chaired by the Olema League’s president, Moulana Akhter Hossain Bukhari, the
discussion today was also addressed by their general secretary, Maolana Md Abul
Hassan Sheikh Sariatpuri, and the president of the Shwammilito Islamic
Gobeshona Parishad, Maolana Md Abdus Sattar.
According to different media reports, Abdul Gaffar Chowdhury on July 3, made
various derogatory comments on Allah, Islam and Muslims in a discussion on
‘Bangladesh: Past, Present and Future’ at the Permanent Mission of Bangladesh
to the UN in New York.
Speaking today, Moulana Akhter Hossain Bukhari said Abdul Gaffar Chowdury’s
comments were ‘a sheer attack on Allah, Islam and Muslims’. Bangladeshi Muslims
would never tolerate such abusive remarks, he continued, and would ‘protest it
as it is an Imani duty.’
He demanded punishment to Gaffar Chowdhury by putting him in the dock after
bringing him back in Bangladesh.
Terming Gaffar Chowdury ‘nastik’ and ‘murtad’, Akhter Hossain also said if the
government ensures exemplary punishment to such individuals, no one would
attempt to raise their voice against Islam and Allah.
UNB/RI
Religion is being Used by Propagandists -- Chowdhury
অপপ্রচারকারীরাই এজন্য
ধর্মকে ব্যবহার করে ধর্মের অবমাননা করছেন বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
সোমবার এক প্রেসনোটে
তিনি বলেন,
“…তারা বলেছে যে আমি ধর্মবিরোধী। রসূল, ইসলাম
এমনকি আল্লাহর অবমাননা করেছি। কোনো সাধারণ মানুষের আল্লাহকে অবমাননা করার শক্তি
আছে? এটা প্রচার করাও ধর্মদ্রোহিতা এবং এ তথাকথিত
ইসলামপন্থিরা এটাই প্রচার করছে।”
গত ফেব্রুয়ারিতে ওমরাহ
করার কথা জানিয়ে গাফফার চৌধুরী বলেন, “… সেই ব্যক্তি নিউ
ইয়র্কে এসে ধর্মদ্রোহিতা করবে কী কারণে? ”
অপপ্রচারকারীদের চেয়ে
নিজেকে ‘বড় মুসলমান’ বলে দাবি করেন তিনি।
গত শুক্রবার জাতিসংঘে
বাংলাদেশ মিশনে এক অনুষ্ঠানে বাংলা ভাষা ও বাঙালি সংস্কৃতির বিবর্তনের ইতিহাস
বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার এক পর্যায়ে ভাষা ও ধর্মের ভিন্নতা তুলে ধরতে গিয়ে একুশের
গানের রচয়িতা গাফফার চৌধুরী বলেন, “এখন যেটাকে আরবি ভাষা বলা হচ্ছে,
সেই ভাষাতে কাফেররাও কথা বলত। আজকে আরবি ভাষার যে সমস্ত শব্দ
আমরা ব্যবহার করি, সবই কাফেরদের ব্যবহৃত ভাষা।
“যেমন
আমরা বলি, আল্লাহর ৯৯ নাম, সবগুলোই
কিন্তু কাফেরদের দেবতাদের ভাষা ছিল। রাহমান, গাফ্ফার ও
গফুর সবই কাফেরদের ব্যবহৃত নাম ছিল। এখন সেগুলো ইসলাম গ্রহণ করেছে। বাংলা ভাষায়
গ্রহণ করার শক্তি বলে বাংলা ভাষাকে আজকে দেখতে পাই সবচেয়ে সমৃদ্ধ ভাষা। এবং এই
ভাষায় আরবি, ফার্সি থেকে শুরু করে যে কোনো প্রকার ভাষা
গ্রহণ করা যায়।”
বিএনপিসহ বিভিন্ন মহল
থেকে তার বক্তব্যের সমালোচনা করা হয়। রোববার একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের সমর্থকদের
বাধায় নিউ ইয়র্কে নির্ধারিত কর্মসূচিতে যোগ দিতে পারেননি গাফফার চৌধুরী।
পরে ব্রুকলিনে
অনুষ্ঠানটি আয়োজন করতে গেলে সেখানেও বাধার মুখে পড়তে হয় আয়োজকদের। ‘মুরতাদ’, ‘নাস্তিক’
আখ্যা দিয়ে গাফফার চৌধুরীর মৃত্যুদণ্ডের দাবিতে স্লোগান দেওয়া হয় সেখানে।
নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশ মিশনের এই অনুষ্ঠানে
দেওয়া আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরীর বক্তব্যের সূত্র ধরেই প্রতিক্রিয়া হচ্ছে।
আল্লাহর ৯৯ নাম সম্পর্কে বক্তব্যের ব্যাখ্যায় প্রেসনোটে
গাফফার চৌধুরী বলেন, “আমি আল্লাহর ৯৯ নাম সম্পর্কে
দেবতাদের নাম বলিনি, আমি বলেছি কালচারাল এসিমিলেশন কীভাবে
প্রত্যেকটি সভ্যতা, এক সভ্যতা থেকে আরেক সভ্যতা উপকরণ
গ্রহণ করে। বাংলা ভাষাকে হিন্দুদের ভাষা বলা হয়, এটা যে
সত্য না এটা প্রমাণ করার জন্য বলেছিলাম যে, আরবি ভাষাও
ছিল এককালীন কাফেরদের ভাষা। এটা বলা কি আরবি ভাষার অবমাননা?
“তারপর
বলেছি, আল্লার নাম গুণাত্মক নামগুলি আগে কাফেরদের
দেবতাদেরও ছিল। তা না হলে রসূলুল্লাহর পিতার নাম আবদুল্লাহ কী করে হয়? এটা তো আর মুসলমান নাম নয়, সেখানে আল্লাহ আছে,
সে আল্লাহ ছিল কাবা শরীফে প্রতিষ্ঠিত মূর্তিগুলোর ভিতরে প্রধান
মূর্তির নাম। অবশ্য কেউ কেউ এটাকে ইলাহ বলে, ইলাহ থেকে
আল্লাহ শব্দের উৎপত্তি। এভাবে আল্লাহর রসূল আরবের যে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, যেটা ধর্মবিরোধী নয়, সেটাকে তিনি গ্রহণ
করেছেন।”
তিনি বলেন, “এমনকি
হজও ইসলামের হজ নয়, এটাও সেই দুই হাজার-তিন হাজার বছর
আগের কাফেরদের দ্বারা প্রবর্তিত হজ, উনি সেখানে এক ঈশ্বর
বার্তাটি যুক্ত করেছেন।
“এটাই
আমি বলেছি যে, এটা হচ্ছে একাডেমিক আলোচনা এবং আমি
সাহাবাদের সম্পর্কে কোনো কটূক্তিই করিনি। আমি বলেছি যে, আমরা
আরবি ভাষা না জেনে, আরবিতে সন্তানদের নামকরণ করি সেটা
ভুল। আমাদের নামকরণের অর্থ জানা উচিত, যেমন আবু হোরায়রা।
এটা রসূলুল্লাহর সাহাবার প্রকৃত নাম নয়। রসূলুল্লাহ তাকে ঠাট্টা করে ‘বিড়ালের
বাবা’ ডাকতেন। এখন আমরা যেহেতু আরবি জানি না, আমরা সেই
বিড়ালের বাবার নামটা আমরা রাখি।”
তাকে ‘মুরতাদ’ বলার
জবাবে গাফফার চেধুরী বলেন,
“…..রসূল বললেই বুঝি আমাদের রসূলুল্লাহকে অবমাননা করা হয়। অথচ
পণ্ডিত নেহেরু যখন সৌদি আরবে যান তখন তাকে বলা হয়েছিল ‘মারহাবা ইয়া রসূলে সালাম’-
‘হে শান্তির দূত তোমাকে সংবর্ধনা জানাই’। অথচ বাংলাদেশে গিয়ে যদি কেউ বলে অমুকে
একজন রসূল, মানে দূত, তাকে
মুরতাদ বলা হবে।
“এই
যারা আজকে মুরতাদ বলছেন তারা প্রত্যেকেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে কথা বলছেন এবং
রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধনের জন্য আজকে তারা ধর্মকে ব্যবহার করে ধর্মের অবমাননা
করছেন। আমি এদের শাস্তি চাই।”
তিনি বলেন, “যারা
যুদ্ধাপরাধ করেছে, বাংলাদেশে ত্রিশ লক্ষ মানুষের মৃত্যুর
জন্য দায়ী, তারা পরবর্তীকালে সমস্ত রকম মুক্তবুদ্ধি,
মুক্তচিন্তার দ্বার বন্ধ করে দিয়ে ইসলামের নাম করে ব্যবসা করতেছে,
ব্যাংক করতেছে, ইন্সুরেন্স কোম্পানি
করতেছে এবং আজকে যারা এই ধর্মকে আবার রাজনৈতিক পুঁজি করেছে তারাই আমার বিরুদ্ধে
অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমি তাদের চাইতে অনেক বড় মুসলমান।”
সমালোচকদের তার বক্তব্য
ভালোভাবে পড়ার আহ্বান জানিয়ে গাফফার চৌধুরী বলেন, “…..আমার বক্তব্যটা
সম্পূর্ণ পড়ুন, তারপর যদি মনে করেন যে আমি ধর্ম, আল্লাহ ও রসুলের বিরুদ্ধে কিছু বলেছি, তখন তার
শাস্তি বিধান করেন। কিন্তু এর আগে বিনা বিচারে একশ্রেণির মোল্লার উস্কানিতে,
রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তারা যা করছেন, এটার
নিন্দা করার ভাষা আমার জানা নেই। তারা আমাকে ছোট করেননি, তারা
ধর্মকে, আল্লাহর রসূলকেই ছোট করছেন।”
Gaffar Chowdhury's Speech and Opposition Terror by Sitangshu Guha of New York
গাফফার চ ৌধুরী
এলেন, লেও চগলেন মুক্তিবুক্তি চচচ
ার মহানায়ক আবদুল গাফফার চচৌধুরী ক্তনউইয়কচ এললন, একাক্তি বছর বয়লে একাত্তলরর মত ফাইট করললন চমৌলবালদর
ক্তবরুলি, তারপর চললও চগললন
ক্তবজয়ীর চবলি। চপছলন চরলে চগললন একরাি প্রশ্ন। এলেক্তছললন হাক্তেেুক্তি প্রফু ল্ল মলন, চগললন ক্তকছুটা ক্তচন্তাক্তিস্ট। ক্তচন্তা
ক্তনলজলক ক্তনলয় নয়, চদিলক ক্তনলয়।
বাাংলালদিলক ক্তক পারলব এর আবহমান কাললর ঐক্ততহয মুক্তিবুক্তির চচচ া
অবযাহত রােলত? পরক্ষলে এর
উত্তরও ক্ততক্তন ক্তনলজই ক্তদলয় চগলছন, বলললছন, 'বাাংলালদলি
তাললবানী পতাকা উড়লব না'। যাবার আলগ চরাববার চিষ প্রকািয েভায় ক্ততক্তন
বলল চগললন, 'আক্তম আিাবাদী, িত অপপ্রচার ও প্রক্ততলরালধর মলধয আপনারা এই
চয েভা আলয়াজন কলরলছন, তালত মলন হয়,
বাাংলালদলি মুক্তিযুলির পক্ষ
িক্তিই ক্তবজয়ী হলব'। ক্তক ঘলটক্তছললা
ক্তনউইয়লকচ? ৩রা জুলাই
বাাংলালদি ক্তমিলন ক্ততক্তন দীঘচবিৃতা চদন। আমক্তিত হললও আক্তম উপক্তিত ক্তছলাম না। রালতই দু'ক্ততন জন অক্তভলযাগ করললন, ফলটা চেিলনর কারলে অলনলকই তালদর ক্তপ্রয়
বযাক্তিত্ব গাফফার চচৌধুরীর কালছ চঘষলত পালরনক্তন। তাত্ক্ক্ষক্তনক
ইন্টারলনট ক্তিক্তপাং, ছক্তব বা োংবালদ
চবাঝা চগল জমজমাট অনুষ্টান হলয়লছ। পরক্তদন চনলট ক্তকছুচহক্ত াং চদলে 'অিক্তনোংলকত'-এর আিাংকা করলাম। দু'একটি ক্তনউলজ উস্কাক্তন চদেলাম। দু'এক জলনর োলে কো বললাম, তারা আস্বি করললন, জানাললন, উক্তন এমন ক্তকছুবললনক্তন চয েমেযা হলত পালর। চেক্তদনই
ক্তবকালল এক ঘলরায়া আড্ডায় গাফফার চচৌধুরীর োলে চদো। চদলেই ক্ততক্তন এমন এক
েলবাধন করললন চয, শুনলল ক্তহন্দুরা
চক্ষলপ যালব! বললাম, গাফফারভাই ক্তমিলন ক্তক বলললছন, মলন হয় আগুন চতা প্রায় লাগলছ। আড্ডায় যা হয়, েবাই েবকো ঠিকমত শুলননা। তাই চকউ পাত্তা
ক্তদললন না। : নূরন নবীর বােভবলন ওই আড্ডা চছাট হললও িহলরর
গুরুত্বপূেচ বযক্তিবগচ উপক্তিত ক্তছললন, ক্তকন্তু এ প্রেঙ্গ আর ওলেক্তন। পরক্তদন চরাববার চবি চদক্তরলত ঘুম চেলক উলে চদক্তে,
আগুন ইক্ততমলধয চবি
ছক্তড়লয় পলড়লছ। চেক্তদন েন্ধ্যায় একটি অনুষ্ঠান ক্তছললা তা বাক্ততল হয়। িান
পক্তরবতচ ন কলর অনযত্র েভা
করার প্রলচষ্টাও চভলে যায়। চমৌলবাদীরা ক্তমক্তছল কলর। আলয়াজক একজন মুক্তিলযািা
ক্তকছুটা নালজহাল হন। এরই মলধয বহু
বিৃতা-ক্তববৃক্তত চদক্তে বা শুক্তন। আওয়ামী লীলগর
বড়লনতার একটি ক্তভক্ত ও ক্তিপ শুক্তন।
তালত ক্ততক্তন যা বললন তা অলনকটা এরকম: 'আওয়ামী লীগ ইেলালমর ক্তবরুলি চকান কো েহয
কলরনা; গাফফার চচৌধুরীর
বিবয ইেলাম ক্তবলরাধী
ক্তকনা তা েক্ততলয় চদেলত হলব'। অেচ ক্তমিলনর ক্তমটিাং-এ ওনারা উপক্তিত ক্তছললন,
ক্তমক্ত য়ায় গাফফার চচৌধুরীর দুই
পালি স্বামী-স্ত্রীর হালেযাজ্জ্বল ছক্তব এলেলছ।
স্বাভাক্তবকভালব প্রশ্ন জালগ, ক্তমিলনর েভায়
গাফফার চচৌধুরীর বিলবযর োমানয প্রক্ততবাদও হয়ক্তন। তোয় উপক্তিত ি'দুই মানুলষর পঁচানব্বই িতাাংিই জ্ঞানীগুেী,
প্রগক্ততিীল মুেলমান। েবাই
বিৃতা শুনললন, হাততাক্তল
ক্তদললন, ছক্তব তু লললন,
কালরা মলন আচড়ও লাগললা না;
অেচ আটচক্তল্লি ঘন্টার বযবধালন
পক্তরক্তেক্তত েম্পূেচপালে চগল!! ক্তবএনক্তপ ও চমৌলবাদীরা
চঘাষো ক্তদললা, গাফফার চচৌধুরীলক
ক্তনউইয়লকচ আর েভা করলত চদয়া হলবনা। জামাতীরা তলল তলল মুেল্লীলদর চক্ষক্তপলয় ক্তদললা। তারা তওবা
করার আহবান জানাললা। চকউ চকউ একধাপ এক্তগলয় গাফফার চচৌধুরীলক 'মুরতাদ' ফলতায়া ক্তদললন। ক্তবএনক্তপ যেন চঘাষো চদয় েভা
করলত চদয়া হলবনা; তেন আওয়ামী লীলগর ওপর দাক্তযত্ব
বতচ ায় ওই েভা করার। ক্তকন্তু আওয়ামী লীগ ক্তকছুকলরনা। দাক্তযত্ব তেন এলে পলর
মুক্তিযুলির স্বপক্ষ িক্তির ওপর। তারা তালদর মহান দাক্তযত্ব পালন কলরন। পক্তত্রকা, ক্তমক্ত য়া, চনলট ি'ি' চস্টটলমন্ট আলে
গাফফার চচৌধুরী ধলমচর ক্তবরুলি
ক্তকছুবললনক্তন। েবাই তারপালি দাড়ায়। ক্তকন্তু চক শুলন কার কো!
মুক্তিযুলির
ক্তবপক্ষ ধমচান্ধ্ িক্তি পক্তরক্তিক্তত চেলক রাজননক্ততক ফায়দা চনবার প্রয়াে চনয়। চফইেবুলক আক্তম একটি চপাক্তস্টাং চদই, জামাত-ক্তবএনক্তপ নয়,
আওয়ামী লীলগর দুই গ্রুলপর
কারলে গাফফার চচৌধুরীর েভা পন্ড হলয়লছ'। দু'এক জন এর ক্তবলরাক্তধতা কলর লবা ক্তফক্তরক্তে
চদন। কলয়ক ঘন্টার মলধয গাফফার চচৌধুরীর ক্তভক্ত ও চস্টটলমন্ট চবলরায়:
'আওয়ামী লীলগর
অন্তকচ ললহ েভা পন্ড হলয়লছ'। যালহাক, এরমলধয ক্ততক্তন বস্টন যান এবাং েফল েভা কলরন। ক্তফলর এলল
মুক্তিযুলির পক্ষিক্তি চরাববার বাঙালী জনাকীেচ জযাকেন হাইটে এলাকায় েভা চদয়,
গাফফার চচৌধুরীর
নাগক্তরক েবধচনা। আওয়ামী লীলগর নীচতলার চনতাকমীরা এবাং েবাই ঝাক্তপলয় পলর এইেভা
েফল করলত। েব প্রস্তুক্তত
েম্পন্ন। ক্তবএনক্তপ-জামাত,
চমৌলবাদীরা বলে ক্তছললানা,
তারাও েকল চচষ্টায় বযেচহলয়
চিষপযচন্ত ষড়যলির আশ্রয় চনয়। েভািল কক্ততচ পক্ষলক চক বা কারা হুমক্তক চদয়, পুক্তলি আলে, ক্তনরাপত্তার কারলে কক্ততচ পক্ষ চভনুয বাক্ততল
কলর। আলয়াজকরা েকাল দিটায় একটি ক্ততনতারা চহালটললর েভাকক্ষ ভাড়া কলর ক্তবকাল ক্ততনটায় েকল
বাঁধাক্তবপক্তত্ত উলপক্ষা কলর গাফফার চচৌধুরীর নাগক্তরক েবধচনার কাজ
েমাপ্ত কলর। যারা চঘাষো কলরক্তছললা গাফফার চচৌধুরীর েভা করলত চদলবনা, তালদর মুলে ছাই ক্তদলয় স্বাধীনতার স্বপক্ষ
িক্তি একুলির গালনর প্র্লনতালক যোলযাগয েন্মান জানায়। েম্পন্ন হয় নাগক্তরক েবধচনার
কাজ। যাবার আলগ ওটাই
ক্তছললা গাফফার চচৌধুরীর চিষ প্রকািয েভা। চেোলন ক্ততক্তন আিা-ক্তনরািার কো
বলললছন। বলললছন, ফলতায়াবাজলদর
ক্তবরুলি োমাক্তজক আলন্দালন গলড় তু ললত হলব। কামাল আতাতু লকচ র মত ক্তবপ্লবী
েরকালরর কোও ক্ততক্তন
বলললছন। এও বলললছন চিে হাক্তেনার পলক্ষ একা এই দানব ধ্বাংি করা েম্ভব নয়, েবাইলক একোলে এর ক্তবরুলি োমাক্তজক ক্তবপ্লব ঘটালত হলব।
ক্ততক্তন স্পষ্ট বলললছন, চমৌলবাদ
বাাংলালদলির প্রধান অন্তরায়। ক্তবক্তভন্ন েমলয় মুরতাদ ফলতায়া েম্পলকচ ক্ততক্তন বললন, কাজী নজরুললক এরা 'কালফর' উপাক্তধ ক্তদলয়ক্তছললা; এেন তারা তালক
বলল 'মুেক্তলম জাগরলের কক্তব'। কক্তব ইকবাললক-ও এরা 'কালফর' চঘাষো ক্তদলয়ক্তছললা, এই কক্তব ইকবাল
এেন পাক্তকোলনর জাতীয় কক্তব এবাং এরা এেন বলল 'আল্লামা ইকবাল'। ক্ততক্তন বললন, বঙ্গবন্ধ্ুএবাং
চিে হাক্তেনালকও এরা বহুবার কালফর বলললছ এবাং আওয়ামী লীগলক চতা বলল, 'ভারলতর দালাল'। প্রশ্ন হললা, গাফফার চচৌধুরীর ক্তবরুলি যারা ক্তবলক্ষাভ
করললা, ফলতায়া ক্তদললা,
এরা কারা? েমেযাটা চেোলনই। োধারে
মানুষ এরমচধয চনই। এরা
চেই পুরালনা ক্তচক্তিত মহল। ক্তমিলনর েভায় যারা চযাগ ক্তদলয়ক্তছললন তারা চকউ
ক্তবলক্ষালভ চযাগ চদনক্তন,
বরাং অলনলকই গাফফার
চচৌধুরীর পলক্ষ ক্তববৃক্তত ক্তদলয়লছন। এর মালন হললা, চকান ক্তবলিষ উলেলিয একটি
মহল এলেলক ফায়দা লুটলত
চালে। পক্তবত্র রমজান মালে ধমীয় উস্কাক্তন ক্তদলয় চকউ চকউ চঘালা পাক্তনলত মাছ
ক্তিকার করার প্রয়াে
ক্তনলে। গাফফার চচৌধুরী
শুধুএকজন বযক্তি নন, ক্ততক্তন একটি
প্রক্ততষ্টান। তার অেন্মান একুলির অেন্মান। একুলির পে চবলয় আমালদর স্বাধীনতা। একুি মালন বাাংলাভাষা।
বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদ। যারা গাফফার চচৌধুরীর ক্তবলরাক্তধতা কলরলছন তারা প্রায় েবাই
একুলির ক্তবলরাধী, স্বাধীনতার
ক্তবলরাধী; বাঙ্গালী
জাতীয়তাবাদ বা বাাংলা ভাষার ক্তবলরাধী। এরা গেতি ও প্রগক্ততর ক্তবলরাধী। এরা
পাক্তকোনপন্থী স্বাধীনতা ক্তবলরাধী িক্তি। এলদরই পূবচেূরীরা রাজাকার-আলবদর ক্তছললা,
এরাই যুিপরাধীলদর ক্তবচার
চায়না এবাং এরাই বাাংলালদিলক ক্তমক্তন পাক্তকোন বানালত চায়। এরা চকউ োকলব না। আবদুল গাফফার
চচৌধুরীই োকলবন। যতক্তদন বাাংলালদি োকলব, যতক্তদন মহান একুি োকলব, ততক্তদন গাফফার চচৌধুরী োকলবন।
ক্তিতাাংশু গুহ, কলাম চলেক।
ক্তনউইয়কচ। ১৪
জুলাই ২০১৫।
There is no Room for Fundamentalists in Bangladesh: Gaffar Chowdhury
নিউইয়র্ক: কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা
এড়াতেই প্রতিবাদ-প্রতিরোধের মুখে নিরবে-নিভৃতে অনুষ্ঠিত হলো বিশিষ্ট কলামিস্ট
আব্দুল গাফফার চৌধুরীর সম্বর্ধনা সভা। রোববার অপরাহ্নে স্থানীয় লাগোর্ডিয়া
এয়ারপোর্ট সংলগ্ন ক্রাউন প্লাজা হোটেলের বলরুমে এই সম্বর্ধনা সভার আয়োজন করা করা
হয়। সভাটি একই দিন সন্ধ্যা ৮টায় জ্যাকসন হাইটস্থ জুইস সেন্টারে হওয়ার কথা ছিলো।
কিন্তু অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতেই কৌশলে সভাটি জেএফকে এয়ারপোর্টের কাছে ক্রাউন প্লাজায়
নিয়ে যাওয়া হয়ে। এজন্য অবশ্য আয়োজকরা কঠোর গোপনীয়তা অবলম্বন করেন। এমনকি মিডিয়াকেও
এই সভা আয়োজনের কথা জানানো হয়নি। কোন মিডিয়াকেও সভাস্থলে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি।
আয়োজকরা শুধুমাত্র গাফফার চৌধুরীর ভক্ত,
সমর্থক
আর শুভান্যুধায়ীদেরকেই ক্রাউন প্লাজায় সভা হওয়ার কথা জানান। যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী
মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সম্মিলিত শক্তি এই সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। খবর
ইউএনএ’র।
এদিকে পূর্ব ঘোষিত জুইস সেন্টারে গাফফার
চৌধুরীর সম্বর্ধনা সভার কথা জেনে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপিসহ প্রতিবাদী তৌহিদী জনতা ১২
জুলাই রোববার সন্ধ্যা ৮টার দিকে জুইস সেন্টারের সামনে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সভা
করেন। সভায় দাবী করা হয় গত ৩ জুলাই জাতিসংঘের বাংলাদেশ মিশনে ‘মহান আল্লাহ, ইসলাম,
নবী-রাসুল
(সা:), আরবী ভাষা, হেজাব’ প্রভৃতি বিষয়ে ‘বিতর্কিত-আপত্তিকর’
বক্তব্য রাখায় ক্ষুব্ধ জনতার হাত থেকে বাঁচতেই আয়োজকরা পালিয়ে গেছে। তৌহিদী জনতার
ভয়ে তারা ঘোষণা দিয়েও তারা সভা করতে পারেনি। এটা তৌহিদী জনতার জিয়, ইসলামের বিজয়। বিক্ষোভকারী ক্ষমতাসীন
আওয়ামী লীগ সরকার ও গাফফফার বিরোধী নানা শ্লোগান দেন।
অপরদিকে ক্রাউন প্লাজায় আয়োজিত সম্বর্ধনা
সভায় কলামিস্ট আব্দুল গাফফার চৌধুরী দেশের চলমান রাজনীতির কথা তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশে মৌলবাদের কোন স্থান নেই। উগ্র
ইসলাম পন্থী আর মৌলবাদকে প্রতিহত না করতে পারলে দেশের স্বাধীনতার লক্ষ্য আদর্শ সফল
হবে না। সম্বর্ধনা সভায় গাফফার চৌধুরী এমন কথাই বলেছেন বলে সভায় উপস্থিত একধিক
প্রবাসী এই প্রতিনিধিকে জানিয়েছেন।
সভায় একুশে ফেব্রুয়ারীর অমর গানের রচয়িতা
আব্দুল গাফফার চৌধুরীর হাতে প্রবাসীদের পক্ষ থেকে ক্রেস্ট তুলে দেন প্রবীণ
সাংবাদিক সৈয়দ মোহাম্মদ উল্লাহ। এর আগে তাকে ফুলে তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়।
সভায় ড. নূরন নবী, সাংবাদিক মাহবুবুর রহমান, নিনি ওয়াহেদ, বেলাল বেগ,
ড.
জিনাত নবী, সরাফ সরকার, শিতাংশু গুহ, কমান্ডর নবী, সব্রত বিশ্বাস, স্বীকৃতি বড়ুয়া, ফাহিম রেজা নূর, মিথুন আহমেদ, মিনহাজ আহমেদ সাম্মু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন
বলে জানা গেছে।
জুইস সেন্টারের সামনে বিক্ষোভ
জুইস সেন্টারের সামনে বিক্ষোভ: কলামিস্ট আব্দুল গাফফার চৌধুরীকে
সম্বর্ধনা প্রদানের জন্য পূর্ব ঘোষিত স্থান জুইস সেন্টারের সামনে যুক্তরাষ্ট্র
বিএনপি ও তৌহদী জনতার বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে। সন্ধ্যা ৮টার দিকে এই সভাবেশ অনুষ্ঠিত
হয়। এতে তারা বিভিন্ন শ্লোগান দেয়। সমাবেশে যোগদানকারী উল্লেখযোগ্য নেতৃবৃন্দের
মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জিল্লর রহমানসহ সামসুল ইসলাম
মজনু, হেলাল উদ্দিন সহ এবাদ চৌধুরী, আব্দুল খালেক আকন্দ, জাকির এইচ চৌধুরী, আবু সাঈদ আহমদ, সাদেক আহমেদ, আবুল খায়ের,
নূরে
আলম, আলতাফ, সেলিম রেজা,
সাইদুর
রহমান, সৈয়দ এনাম আহমেদ, মার্শাল মুরাদ, আব্দুর রহিম, মোহাম্মদ আলী রেজা, রেজাউল আজাদ ভুইয়া, শহাহীন আহমেদ, জীবন শফিক,
সাদেক
আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকদের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি: এদিকে ১২ জুলাই
রোববার রাতে আয়োজকদের পক্ষ থেকে প্রেরীত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে:
কিংবদন্তীর সাংবাদিক, একুশের গানের রচয়িতা আবদুল
গাফফার চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশে কখনোই কোন
তালেবানী পতাকা উড়বে না- এ বিশ্বাস নিয়ে আমি ফিরে যাচ্ছি। তিনি বলেন, শত অপপ্রচার ও প্রতিকুলতার মধ্যে আজকে
এখানে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ শক্তি যেভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন, তাতে আমি আশাবাদী। বাংলদেশে মুক্তিযুদ্ধের
স্বপক্ষ শক্তির বিজয় নিশ্চিত। রোববার ১২ জুলাই জ্যামাইকার ক্রাউন প্লাজা হোটেলের সভাকক্ষে নিউইয়র্ক প্রবাসী মুক্তিযুদ্ধ
পক্ষীয় বাঙালী সমাজ প্রদত্ত নাগরিক সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে অনুষ্ঠানের মডারেটর মুক্তিযোদ্ধা ড. নুরন নবী বলেন, আমাদের এই অনুষ্ঠানটি ছিলো জ্যাকসন
হাইটসের জুইস সেন্টারে। স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির হুমকিতে জুইস সেন্টার কর্তৃপক্ষ
ভেন্যু বাতিল করে দেয়। ফলে কয়েক ঘন্টার নোটিশে আমাদের এই সভার আয়োজন করতে হয়। ড.
নূরন নবী বলেন, মৌলবাদী শক্তি ঘোষণা
দিয়েছিলো, তারা কোন অনুষ্ঠান করতে
দেবেনা। কিন্তু আজ উদীচী ও আমরা দু’টি অনুষ্ঠান করে তার জবাব দিয়েছি।
অনুষ্ঠানে আব্দুল গাফফার চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের শত্রু দুটি: মৌলবাদ ও
দুর্নীতি। এ দু’টো ধ্বংস করা না গেলে আধুনিক,
প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্টা করা
যাবেনা। এজন্যে সেকুলার সোসাইটির ভুমিকা অনেক বেশি। তিনি বলেন, ধর্মান্ধতা বাংলাদেশে প্রগতির পক্ষে সবচেয়ে
বড় অন্তরায়। বিভিন্ন সময়ে মৌলবাদীরা প্রগতিশীলদের ‘মুরতাদ’ ঘোষণা দেয়া সম্পর্কে
গাফফার চৌধুরী বলেন, একদা এই মৌলবাদী গোষ্ঠী কাজী
নজরুল ইসলামকে ‘কাফের’ ঘোষণা করেছিলো। এমনকি কাজী নজরুলকে ঢাকায় সভা পর্যন্ত করতে
দেয়া হয়নি। কিন্তু আজ নজরুলকে বলা হয়,
‘মুসলিম
গণজাগরণের নায়ক’। কবি ইকবালকে ‘কাফের’ ঘোষণা করেছিলো মৌলবাদীরা। অথচ সেই ইকবালই
এখন পাকিস্তানের জাতীয় কবি। তিনি বলেন,
এইসব
মৌলবাদী ও ফতোয়াবাজদের দের বিরুদ্ধে একটি আন্দোলন দরকার। তিনি বলেন, ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ির কারণে আজ পাকিস্তান ও
আফগানিস্তানের অবস্থা করুন। তিনি বলেন,
অন্য
ধর্মীয় মানুষের হাতে যত মুসলমান মারা যাচ্ছে,
তারচেয়ে
দশগুণ বেশি মুসলমান মারা যাচ্ছে নিজেদের মধ্যে মারামারি করে। তিনি বলেন, একসময় ভেটিকানের আধিপত্যের বিরুদ্ধে
ক্রিস্টানরা আন্দোলন করেছিলো। তেমনি এখন মৌলবাদ ও ফতোয়াবাজদের বিরুদ্ধে আন্দোলন
দরকার।
অনুষ্ঠানে একুশের গানের প্রণেতা গাফফার
চৌধুরীকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির পক্ষ থেকে একটি ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। এটি
প্রদান কালে পরে শোনান বেলাল বেগ। সন্মিলিতভাবে এটি তার হাতে তুলে দেন, সৈয়দ মোহাম্মদ উল্লাহ, বেলাল বেগ,
শিতাংশু
গুহ, উদীচীর সুব্রত বিশ্বাস, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ফাহীম রেজা নুর
ও স্বীকৃতি বড়ুয়া। ক্রেস্টে লেখা ছিলো:
কিংবদন্তী
কলামিস্ট আবদুল গাফফার চৌধুরীর প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলী
বাঙালীর নবজাগরণের যাদুমন্ত্র, অমর একুশের গান, ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে
ফেব্রুয়ারী আমি কি ভুলিতে পারি’র রচয়িতা,
কিংবদন্তী
কলাম লেখক, কবি ও সাহিত্যিক, নির্ভীক সাংবাদিক, সত্য ও ন্যায়প্র্রতিষ্ঠায় অকুতোভয় সৈনিক, মুক্তিযোদ্ধা, ‘জাতির পিতা’ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের
স্নেহধন্য, বাঙালী জাতীয়তাবাদের মহীররুহ, দৃপ্তকন্ঠ,
আবদুল
গাফফার চৌধুরীর বাংলা ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি এবং দেশ ও জাতির প্রতি বহুমুখি
অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ কৃতজ্ঞ দেশবাসীর পক্ষে এই শ্রদ্ধাঞ্জলী তাঁর করকমলে অর্পন
করা হল।
নিউইয়র্ক প্রবাসী মুক্তিযুদ্ধ পক্ষীয়
বাঙালী সমাজ, জুলাই ১২, ২০১৫
অনুষ্ঠানের
শুরুতে উদীচীর শিশু শিল্পীরা দু’টি গান পরিবেশন করে। একুশের গান পরিবেশনার সময়
সবাই উঠে দাড়িয়ে সন্মান জানান। অনুষ্ঠানে উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে গাফফার চৌধুরীকে
ফুলের তোড়া উপহার দেন, ড. জিনাত নবী, নিনি ওয়াহেদ, মিথুন আহমদ,
মিনহাজ
আহমেদ সাম্মু, আলপনা গুহ, উর্বি হাই,
জীবন
বিশ্বাস, গোপাল সন্যাল প্রমুখ। এর আগে উদীচীর শিশু শিল্পীরা একেএকে
অনেকে গাফফার চৌধুরীর হাতে ফুল তুলে দেন।
অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ
সম্পাদক শিতাংশু গুহ‘র যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পর্কিত এক প্রশ্নোত্তরে গাফফার
চৌধুরী বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের রক্ত থেকে
বহু যুদ্ধাপরাধীর জন্ম হয়েছে। তবে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চলছে। মূল অপরাধীদের বিচার
শেষ হবেই। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আছেন বলেই এই বিচারটা হতে পারছে, অন্য কারো পক্ষে এই বিচার করা সম্ভব ছিলো
না। এই বিচার শেষ করতে শেখ হাসিনাকে সাহায্য করতে একট ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন দরকার।
সাংবাদিক মাহবুবুর রহমানের আজকের এই
অনুষ্ঠান স্থানান্তর আয়োজকদের বাধ্যবাধকতার কারণ হিসাবে মৌলবাদীদের ষড়যন্ত্রের কথা
বললে, হাউজ থেকে জামাত-বিএনপি’র
বিরুদ্ধে ‘শেম শেম’ উচ্চারিত হয়।
সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের মিথুন আহমদ
প্রশ্ন করেন, মৌলবাদীদের উত্থান বা
সাম্প্রতিক সংকট থেকে উত্তরণের রণকৌশল কি হওয়া উচিত?
উত্তরে
গাফফার চৌধুরী বলেন, এজন্যে একটি সামাজিক বিপ্লব
দরকার। হাসিনার পক্ষে একা কঠিন। তিনি বলেন,
সবাইকে
এগিয়ে আসতে হবে।
উল্লেখ্য,
মিডিয়াকে
না জানিয়ে প্রখ্যাত সাংবাদিক-কলামিস্ট আব্দুল গাফফার চৌধুরীকে সম্বর্ধিত করায়
সাংবাদিক সমাজসহ কমিউনিটিতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই মন্তব্য করেছেন
এমন গোপণীয় সম্বর্ধনার মধ্য দিয়ে আব্দুল গাফফার চৌধুরীকেই অপমানিত করা হয়েছে।
New York's Event and My "Friend's" Whoopla (Propaganda) by Abdul Ghaffar Chowddhury
প্রকাশ : জনকণ্ঠ - ৭ শ্রাবণ ১৪২২ বুধবার ২২ জুলাই ২০১৫ | ঢাকা, বাংলাদেশ
নিউইয়র্কের ঘটনা
এবং আমার ‘বন্ধুদের’ রটনা
তারিখ: ২২/০৭/২০১৫
·
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
·
চলতি মাসের গোড়ায় নিউইয়র্কে গিয়েছিলাম। বাংলাদেশের ওপর একটা ডকুমেন্টারি
ছবি করছি। তাতে কয়েকজন মার্কিন নেতার ইন্টারভিউ রেকর্ড করার ইচ্ছা নিয়েই আমার এই
আটলান্টিক পাড়ি দেয়া। আমি নিউইয়র্কে যাচ্ছি জেনে সেখানে বাংলাদেশ মিশনের প্রধান
আবুল মোমেন আমাকে অনুরোধ জানালেন, আমি যেন
তাদের মিশনে আয়োজিত এক সভায় একটি বক্তৃতা দেই। এটি একাডেমিক আলোচনা সভা। প্রতিবছরই
একটি বক্তৃতা দেয়া হয়। বিষয় ‘বাংলাদেশের অতীত, বর্তমান ও
ভবিষ্যত।’ আমি সানন্দে তার অনুরোধে রাজি হয়েছি।
তেসরা জুলাই শুক্রবার সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় গিয়ে দেখি এটি সাধারণ জনসভা নয়। নিউইয়র্কের শিক্ষিত ও বিশিষ্ট বাংলাদেশীদের
উপস্থিতিতে একটি আলোচনা সভা। সেখানে মন খুলে কথা বলতে পারব ভেবে আনন্দিত হই। আমার
এক ঘণ্টার বক্তৃতায় বাংলাদেশের অতীত নিয়ে আলোচনা করেছি। বাঙালী জাতীয়তা, তার সভ্যতা ও সংস্কৃতির ভিত্তি হিসেবে বাংলা ভাষার ঐতিহাসিক ভূমিকা
বিশ্লেষণ করেছি। প্রাচীনকালে উচ্চবর্ণের হিন্দু শাসকেরা বাংলা ভাষাকে ধ্বংস করার
জন্য একে ‘রৌরব নরকের ভাষা’ আখ্যা দিয়েছিলেন। বেদ বা কোন ধর্মগ্রন্থ বাংলায় পড়া
হলে পাঠককে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার বিধান দেয়া হয়েছিল। বাংলা ভাষাকে রক্ষার জন্য
বাংলায় রচিত গ্রন্থ নিয়ে তখনকার বাংলাভাষী বৌদ্ধরা নেপালে পালিয়ে গিয়েছিলেন। তারই
একটি গ্রন্থ চর্য্যাচর্য্য বিনিশ্চয়।
হোসেন শাহী
আমলে বাংলা ভাষা সরকারী পৃষ্ঠপোষকতা পায়। ফার্সি সাহিত্যের প্রভাবে বাংলা
সাহিত্যেও প্রেম-প্রণয়মূলক পুঁথি রচিত হয়। বাংলায় রামায়ণ-মহাভারত অনূদিত হয়। ইংরেজ
আমলে খ্রিস্টান মিশনারিরা ক্রিশ্চান ধর্ম প্রচারের জন্য বাংলা ভাষাকে ব্যবহার করে
ভাষার উন্নতি ঘটায়। পাকিস্তান আমলে আবার বাংলা ভাষার ওপর হামলা শুরু হয়। বাংলা
ভাষাকে হিঁদুয়ানি ভাষা এবং বাংলা সংস্কৃতিকে ইসলামবিরোধী আখ্যা দিয়ে ধ্বংস করার
চেষ্টা করা হয়। এরই প্রতিবাদে লোকায়ত বাঙালী জাতীয়তার নবজাগরণ। এই জাগরণের
ভিত্তিতে বাঙালীর মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতা অর্জন।
ভাষা-জাতীয়তা
সম্পর্কে আলোচনা প্রসঙ্গে আমি বলেছি, ভাষার কোন
ধর্মীয় পরিচয় নেই। ইসলাম-পূর্ব যুগে আরবী ভাষা অমুসলিমদের ভাষা ছিল। সেই ভাষাতেই
কোরান নাজেল হয়েছে এবং ইসলাম প্রচারিত হয়েছে। আল্লাহর বহু গুণবাচক নাম আরবী ভাষা
থেকেই সংগৃহীত এবং আগে তা কাবার দেবতাদের নাম হিসেবে ব্যবহৃত হতো। দেবতাদের
মূর্তিগুলো ভেঙে ফেলার পর এই নাম শুধু আল্লাহর গুণবাচক নাম হয়ে দাঁড়ায়। ধর্মের
অবমাননা করার জন্য আমি একথা বলিনি। ভাষার বিবর্তন বিশ্লেষণ করতে গিয়ে বলেছি। আমার
এই বক্তব্যের কোন প্রতিবাদ নিউইয়র্কের সভাগৃহে হয়নি। আমি যদি ভুল বলে থাকি, তাহলে নিশ্চয়ই আমার বক্তব্য কেউ খ-ন করতে পারেন এবং আমিও ভুল শোধরাতে পারি।
কিন্তু এই বক্তব্য দ্বারা আমি কি করে মুরতাদ, কাফের হয়ে
গেলাম, তা এখনও বুঝে উঠতে পারিনি।
যাহোক, আমার নিউইয়র্কের বক্তব্য নিয়ে নতুন করে আলোচনার সূত্রপাত করতে চাই না। আমার
শুভাকাক্সক্ষীরা বলেছেন, আপনি নিউইয়র্কের বক্তব্যের যে ব্যাখ্যা
দু’দিন পরেই দিয়েছেন, সেটাই যথেষ্ট। তার পুনরুক্তি নিষ্প্রয়োজন।
আমারও তাই মনে হয়েছে। আমার বিরুদ্ধে অসত্য প্রচারণার প্রতিবাদে নিউইয়র্কের ড.
নুরুন্নবী, সৈয়দ মোহাম্মদ উল্লা, ফাহিম রেজা নূর, হাসান আবদুল্লাহ, শহীদ কাদরি প্রমুখ ৩৮ জন বুদ্ধিজীবী একটি যুক্ত বিবৃতি দিয়েছেন। ঢাকায় ড.
মুনতাসীর মামুন ‘জনকণ্ঠে’ সিরিজ আর্টিকেল লিখে মৌলবাদীদের মিথ্যা প্রচারের
দাঁতভাঙা জবাব দিয়েছেন। শাহরিয়ার কবির তথ্যসমৃদ্ধ নিবন্ধ লিখেছেন। কানাডা থেকে
ইসলামী শাস্ত্রবিশেষজ্ঞ হাসান মাহমুদ তার নিবন্ধে আমার বক্তব্য যে অসত্য ও
ধর্মবিরোধী নয়, তা জোরাল তথ্যপ্রমাণ দিয়ে উত্থাপন করেছেন।
আরও অনেকে আমাকে সমর্থন জানিয়ে বিভিন্ন মিডিয়ায় লিখেছেন। লন্ডনে সুজাত মাহমুদসহ
বিশিষ্ট তরুণ বুদ্ধিজীবীরা আমার সমর্থনে কলম ধরেছেন। ঢাকায় গণজাগরণ মঞ্চ আমার
পক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়েছে। এদের সাহসী ভূমিকাকে আমি অভিনন্দন জানাই। তাই
নিউইয়র্ক-বক্তব্যের নিজে আর কোন বিশ্লেষণ দিতে চাই না।
তবে
নিউইয়র্কে কি ঘটেছে তার একটা বিবরণ আমার কাছে অনেকেই জানতে চেয়েছেন। নিউইয়র্ক, ঢাকা এবং লন্ডনের বিএনপি ও জামায়াতপন্থী কয়েকটি কাগজ এ সম্পর্কে যে অসত্য ও
বানোয়াট কাহিনী অতিরঞ্জিত করে প্রচার করেছে, তাতে এদের
রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বুঝতে আমার দেরি হয়নি। নিউইয়র্কের অধিকাংশ বাংলা মিডিয়াই
জামায়াতিদের কব্জায়। একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী মীর কাশিমের অর্থে একটি টেলিভিশন ও
বাংলা সাপ্তাহিক পরিচালিত হয়।
নিউইয়র্কের
একটি বাংলা সাপ্তাহিকের ভূমিকা রাষ্ট্রদ্রোহিতামূলক। বিদেশে বাস করে অনবরত দেশ ও
জাতির বিরুদ্ধে অবমাননামূলক প্রচারণা চালাচ্ছে। বাংলাদেশ সরকারের উচিত এই ধরনের
পত্রিকার অসত্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা যাতে জনগণের মন বিষাক্ত না করে সেজন্য
ব্যবস্থা গ্রহণ করা। নিউইয়র্কের এই সাপ্তাহিক পত্রিকাটি একবার প্রথম পৃষ্ঠায়
ব্যানার হেডিংয়ে খবর ছেপেছে, ‘ঢাকার
রাজপথে ভারতের সেনাবাহিনী টহল দিচ্ছে।’ ঢাকায় একাত্তরের এক যুদ্ধাপরাধীর মৃত্যুদ-
কার্যকর হওয়ার সময় খবরের হেডিং দিয়েছে ‘ঢাকায় ফাঁসির মহোৎসব।’ আমার নিউইয়র্ক
বক্তব্যের শুধু বিকৃতি সাধন করেই এই পত্রিকাটি ক্ষান্ত হয়নি। আমি রাষ্ট্রীয় অর্থে
মার্কিন মুল্লুকে গিয়েছি, আমার বক্তব্যের জন্য নিউইয়র্কের বাংলাদেশ
মিশনের প্রধান আবুল মোমেন সাহেবও দায়ী এবং অবিলম্বে তার অপসারণ দরকার ইত্যাদি
অসত্য ও উদ্দেশ্যমূলক প্রচার চালাতেও এই পত্রিকাটি দ্বিধা করেনি।
ঢাকা-নিউইয়র্ক-লন্ডনের
জামায়াত ও বিএনপিপন্থী এবং তাদের অর্থে পরিচালিত মিডিয়াগুলোর মধ্যে একটা লিঙ্ক
আছে। সব শিয়ালের এক রা’র মতো এরা একই সুরে প্রচারণা চালায়। আমার বিরুদ্ধে
প্রচারণার সময় অশ্লীল মন্তব্য জুড়তেও এরা দ্বিধা করেনি। ইসলাম রক্ষার নামে এই
পত্র-পত্রিকাগুলো সাংবাদিকতাকে কতটা নিচু স্তরে নামাতে পারে, এবারেও তার প্রমাণ তারা দিয়েছে। আমি নিউইয়র্কে বক্তৃতা দিয়েছি ৩ জুলাই
শুক্রবার। শনিবারেই শুনতে পাই ঢাকায় একটি দৈনিকে আমার বক্তব্যকে কাটছাঁট করে
এমনভাবে প্রচার করা হয়েছে যাতে মনে হতে পারে আমি আল্লা, রসূল এবং ইসলাম ধর্মের চরম অবমাননা করেছি।
এভাবে এবং
ধর্মকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে এরা প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে চায়। সরল ধর্মপ্রাণ
মানুষকে এরা মিথ্যা প্রচারণা দ্বারা উত্তেজিত করে এবং তাদের অনেকের মনে খুনের নেশা
জাগিয়ে দেয়। আজ একথা প্রমাণিত যে, একাত্তরের
যুদ্ধাপরাধী দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর উস্কানিমূলক ফতোয়ার জন্যই হুমায়ুন আজাদের
প্রাণনাশের জন্য নৃশংস চাপাতি হামলা চালানো হয়েছিল। কবি শামসুর রাহমানকেও মুরতাদ
আখ্যা দিয়ে তাঁর বাড়িতে ঢুকে হামলা চালানো হয়েছিল। তিনি অল্পের জন্য বেঁচে যান।
আমার ধারণা, আমার নিউইয়র্ক-বক্তৃতার বিকৃতি ঘটিয়ে এবং বিকৃত ব্যাখ্যা প্রচার করে
উগ্রপন্থী জামায়াতি মৌলবাদীরা চেয়েছিল কিছু সরলপ্রাণ মুসলমানকে উত্তেজিত করে
আমাকেও হত্যা করার প্ররোচনা দিতে। তাদের এই উস্কানি সফল হলে আমার ওপর দৈহিক হামলা
হতে পারতো। এখনও হতে পারে না তা নয়। আমার ওপর হামলা চালানোর জন্য নিউইয়র্কের দুটি
সাপ্তাহিক, লন্ডনের দুটি এবং ঢাকায় তিনটি জামায়াত ও
বিএনপিপন্থী দৈনিক অনবরত ধর্মপ্রাণ মানুষকে উস্কানি দেয়ার মতো রঞ্জিত অতিরঞ্জিত
খবর ছেপেছে। মসজিদের ইমাম সাহেবদের কাছে গিয়ে আমার বক্তব্য বিকৃতভাবে শুনিয়ে তাদের
কাছ থেকেও আমার বিরুদ্ধে ফতোয়া বের করে তা ফলাও করে প্রচার করেছে। এক শ্রেণীর ইমাম
ও খতিবও আমার বক্তব্য সম্পূর্ণভাবে না জেনে এবং অভিযুক্ত হিসেবে আমার কাছ থেকে কোন
ব্যাখ্যা দাবি না করেই কাগুজে খবর শুনেই মুরতাদ ও কাফের বলে ফতোয়া দিয়েছেন। তার
ফলে যে একজন মুসলমানের জীবন বিপন্ন হতে পারে, সেই বিবেচনা
তাদের মাথায় ঢোকেনি। তারা সিরিয়ার আইসিসের মতো মুসলমান হয়ে মুসলমানের কল্লাকাটার
অভিযানে মদদ জোগাতে চান কিনা আমি জানি না। আইসিস চালাচ্ছে অস্ত্র দিয়ে হত্যা
অভিযান। এদের অনুসারীরা বাংলাদেশে একই হত্যাভিযান চালাতে চায় প্রচারণা ও ফতোয়ার
দ্বারা।
আল্লার
অপার মহিমা। আমি যে আল্লার অবমাননা করেছি বলে এই ধর্ম-ব্যবসায়ীরা প্রচারণা
চালাচ্ছেন, সেই আল্লাই আমাকে তাদের ষড়যন্ত্র থেকে রক্ষা
করেছেন। ঢাকা-লন্ডন-নিউইয়র্কে একযোগে প্রচারণা চালিয়ে, ফতোয়াবাজি করেও এরা ধর্মপ্রাণ সাধারণ মুসলমানকে আমার বিরুদ্ধে উত্তেজিত
করতে পারেনি। আমেরিকায় তারা আমার একটি সভাও প- করতে পারেনি। অথচ জোর প্রচারণা
চালিয়েছে, আমার সভা প- করেছে এবং জুতো হাতে
বিক্ষোভকারীদের সাজানো ছবি প্রকাশ করেছে। কোন প্রকৃত সাংবাদিক ও সংবাদপত্র এই
ধরনের মিথ্যা প্রচার করতে পারে না।
নিউইয়র্কে
আমার সভায় এসে জামায়াত ও বিএনপিপন্থীরা কোন প্রশ্ন করতে চাইলে আমি তার উত্তর দানে
প্রস্তুত ছিলাম। প্রশ্ন করার মতো জ্ঞানবুদ্ধি তাদের ছিল না। তাই তারা চেয়েছিল সভায়
এসে দাঙ্গা-হাঙ্গামা বাধাতে। কিন্তু সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত ও উত্তেজিত করে সভায়
আনতে না পেরে তারা সভা যাতে না হতে পারে তার জন্য অন্য কৌশল গ্রহণ করে। নিউইয়র্কের
তাজমহল হোটেলে একটি সভা অনুষ্ঠানের কথা ছিল। হোটেলের মালিককে ভয় দেখানো হয়, তার হোটেলে সভা হলে ভাঙচুর হবে। তিনি ভয় পেয়ে হোটেলে সভা করার অনুমতি বাতিল
করে দেন।
এরপর সভার
উদ্যোক্তারা শহরের জুইস সেন্টারে সভাটি করার আয়োজন করেন। সেখানেও একই কৌশল গ্রহণ
করা হয়। টেলিফোনে জুইস সেন্টার ভেঙে ফেলার হুমকি দেয়া হয়। সেন্টার কর্তৃপক্ষও সভা
করার অনুমতি বাতিল করেন। এই দুই স্থানের সভাতেই জামায়াত-বিএনপির হুমকি অগ্রাহ্য
করে যেতে প্রস্তুত ছিলাম। কিন্তু সভার উদ্যোক্তারা সভা বাতিল করেছেন জানানোর ফলে
আর যাইনি। আমি যখন জুইস সেন্টারের ধারে কাছেও নেই, বরং
ম্যানহাটনের এক বাড়িতে বসে আড্ডা দিচ্ছি, তখন জুইস
সেন্টারের সামনে জনাত্রিশেক জামায়াতিকে হাতে জুতো ধরিয়ে দিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন
করতে বলা হয়। সেই সাজানো বিক্ষোভের ছবি একশ্রেণীর পত্র-পত্রিকায় বড় করে ছাপিয়ে তার
ক্যাপশন দেয়া হয়েছে, ‘গণবিক্ষোভের মুখে গাফ্ফার চৌধুরীর জনসভা
প-।’ মুখে ইসলাম কিন্তু কাজে ক্যামেরার অসৎ কারসাজিÑ এটাই হচ্ছে
বিএনপি-জামায়াতপন্থী কাগজগুলোর সাংবাদিকতার স্ট্যান্ডার্ড!
তবে
বোস্টনে আয়োজিত আমার সভায় শ্রোতা সেজে কিছু জামায়াতি ঢুকেছিল। মজার কথা, আমার বক্তৃতার সময় তারা কোন গ-গোল করেনি। কেবল বক্তৃতা শেষ হলে আমাকে কিছু
প্রশ্ন করতে চেয়েছে। আমি নিউইয়র্কের সভায় কেন বলেছি ‘আমি আগে বাঙালী, তারপর মুসলমান (জামায়াতিরা প্রচার করেছে আমি নাকি বলেছি, আমি মুসলমানত্ব ছাড়তে পারি, বাঙালিত্ব
ছাড়তে পারি না)। এর জবাবে রসুলুল্লাহ (দ) যে নিজের পরিচয় দিতে গিয়ে বলতেন, ‘মোহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ আল আরাবী, আল মাক্কি’
আমি একথা বলতেই তারা নিশ্চুপ হয়ে যায় এবং হঠাৎ প্রশ্ন করার বদলে হাঙ্গামা শুরু
করার চেষ্টা চালায়।
মজার কথা
এই যে, সভার পুরুষ শ্রোতারা নন, কয়েকজন মহিলা শ্রোতা তাদের প্রতি আঙুল দেখিয়ে তালেবান, তালেবান বলে চিৎকার শুরু করলে তারা পালাতে শুরু করে। উগ্রমূর্তিধারণকারী
দু’একজনকে পুলিশ বের করে দেয়। তাদের ভেতরের দু’চারজন সভায় থেকে যান এবং পুলিশকে
জানায়, একজন কাফের এখানে সভা করছেন এবং তাকে বাধা
দিতে হবে এই কথা বলে জামায়াতিরা তাদের এই সভায় ডেকে নিয়ে এসেছে। কিন্তু তারা এসে
দেখছেন, সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা বলে তাদের এখানে ডেকে
আনা হয়েছে। তারা এজন্য দুঃখিত।
আমি
নিউইয়র্ক ছেড়েছি ১৪ জুলাই। তার আগে তাজমহল হোটেলে ও জুইস সেন্টারে যে সভাটি হতে
পারেনি সেটি অনুষ্ঠিত হয় জেএফ কেনেডি এয়ারপোর্ট সংলগ্ন ক্রাউন প্লাজা হোটেলে।
মুক্তিযুদ্ধের সমর্থক এবং প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক সংস্থাগুলোর উদ্যোগে এই সভা হয়।
নিউইয়র্ক ও নিউজার্সির বহু বিশিষ্ট বাঙালী এই সভায় এসেছিলেন। এই সভাতেও আমি
বর্তমান যুগে মুক্তচিন্তার বিরোধী ধর্মান্ধদের দ্বারা ধর্মের দুর্বৃত্তায়নের
ইতিহাসটি তুলে ধরেছি। বলেছি, কবি কাজী
নজরুল ইসলামকে কাফের আখ্যা দেয়ার পর তিনি লিখেছিলেন, ফতোয়া
দিলাম কাফের কাজীও, যদিও শহীদ হইতে রাজিও।’ আমি সে কথা বলি না; আমি শুধু বলি এই অসৎ, ঘাতক
ধর্মব্যবসায়ীদের দিন শেষ হয়ে এসেছে। এরা জনগণের শত্রু এবং ধর্মেরও শত্রু।
মধ্যপ্রাচ্যে যে আত্মঘাতী বর্বরতা তারা শুরু করেছে, তা-ই তাদের
চূড়ান্ত পতন ও পরাজয় ডেকে আনবে। ‘দানবের মূঢ়
অপব্যয়
গ্রন্থিতে
পারে না কভু ইতিহাসে শাশ্বত অধ্যায়।’
লন্ডন, ২০ জুলাই, সোমবার, ২০১৫